সীতাকুণ্ডের ডিজিটাল গার্ডিয়ান রমিজ।

Daily Mukti Samachar - দৈনিক মুক্তি সমাচার: জুলাই ২০, ২০২৫

সীতাকুণ্ডের ডিজিটাল গার্ডিয়ান রমিজ।আনোয়ার হোসেন রকি, (চট্টগ্রাম) স্টাফ রিপোর্টাস:  

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিরাপত্তা সংক্রান্ত সমস্যা বর্তমানে একটি সাধারণ বিষয় মাত্র। অনেকেই হ্যাকিং, আইডি লগআউট, ফিশিং কিংবা অজান্তেই তাদের অ্যাকাউন্টে অনধিকার প্রবেশের মতো সমস্যার মুখোমুখি হন। এই সময়ে সীতাকুণ্ড উপজেলার এক তরুণ নজরুল ইসলাম রমিজ হয়ে উঠেছেন আশার আলো।

সীতাকুণ্ডের ছেলে নজরুল ইসলাম রমিজ একজন ফেসবুক সিকিউরিটি এক্সপার্ট প্রযুক্তির সৈনিক, মানুষের পাশে এক নিরাপত্তার যোদ্ধা। নজরুল ইসলাম রমিজ (২১), সীতাকুণ্ড শেখের হাটের বাসিন্দা, শহীদ ক্যাপ্টেন শামছুল হুদা উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এস এস সি দিয়েছেন ২০২০ সালে।

লোকের কাছে পরিচিত স্থানীয় ফেসবুক সিকিউরিটি এক্সপার্ট ও প্রযুক্তি সহায়তাকারী হিসেবে। রমিজ দীর্ঘদিন ধরে সীতাকুণ্ডের সাধারণ মানুষের ফেসবুক আইডি নিরাপত্তা সংক্রান্ত সমস্যা সমাধানে কাজ করে যাচ্ছেন। তার সহায়তায় অনেকেই পুনরুদ্ধার করেছেন হ্যাক হওয়া বা ব্লক হয়ে যাওয়া ফেসবুক অ্যাকাউন্ট।

তিনি যেসব সমস্যার সমাধান দিয়ে থাকেনঃ

: হ্যাক হওয়া আইডি পুনরুদ্ধার

: ফিশিং লিঙ্কে ক্লিক করার পর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ

: 2FA (Two-Factor Authentication) রিকভারি

: ফেসবুক লক বা Disable হওয়া অ্যাকাউন্ট রিভিউ

: নাম পরিবর্তন সংক্রান্ত সমস্যা

: আইডি ভেরিফিকেশন বিষয়ক সহায়তা

: নিরাপদ লগইন ও প্রাইভেসি সেটিংস গাইডলাইন

: ফেক আইডি সরানো সহ নানা সমস্যা সমাধান

নজরুল ইসলাম রমিজ একজন নিঃস্বার্থ প্রযুক্তি সহায়তাকারী, যিনি স্থানীয় মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে ডিজিটাল নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। তার এই কাজ শুধু প্রযুক্তিগত অবদান নয়, বরং মানবিক দিক থেকেও অনুকরণীয়।

তাকে বলা যেতে পারে: "সীতাকুণ্ডের ডিজিটাল গার্ডিয়ান"।

মেহেদী হাসান একজন ব্যবহারকারীর অভিমত: “আমার আইডি হ্যাক হয়ে যাওয়ার পর আমি হতাশ হয়ে পড়ি। নজরুল ভাইকে বিষয়টি জানালে তিনি মাত্র একদিনেই আমার আইডি ফিরিয়ে দেন। আমি সত্যিই কৃতজ্ঞ।”

- এই রকম অনেকেরি অভিমত আমরা রমিজের ব্যাক্তিগত একাউন্টে দেখতে পায়।

নজরুল ইসলাম রমিজের সাথে কথা হলে তিনি "দৈনিক মুক্তির সমাচার" কে জানান "আমার যাত্রার শুরুটা ছিলো এক দুঃখজনক অভিজ্ঞতা দিয়ে। ২০১৮ সালে হঠাৎ করেই আমার ফেসবুক অ্যাকাউন্টটি লক হয়ে যায়, কোনো কারণ ছাড়াই। হয়তো কেউ হ্যাক করার চেষ্টা করেছিলো। তখন আমি খুব অসহায় বোধ করছিলাম — না কোনো এক্সপার্ট ছিল পাশে, না আমার কাছে ছিলো আইডি কার্ড, যার মাধ্যমে একাউন্টটি আনলক করতে পারতাম।"

"এক পর্যায়ে এক জনের কাছে সাহায্য চাই। সে প্রথমে ৫০০ টাকা চায়, পরে ৩০০ টাকায় কাজটা করে দেয়। তার কথা বলার ধরন দেখে আমি তাকে বিশ্বাস করি। ঠিক তখন থেকেই Recover Expert জিনিসটা সম্পর্কে জানার আগ্রহ জন্মায়।"

"এরপর আমি বিভিন্ন ফেসবুক গ্রুপে কাজ খুঁজতে থাকি — "ফ্রিতে কাজ করে দিব" বলে চেষ্টা করতে থাকি, যদিও তখনো আমি তেমন কিছু পারতাম না। তারপর এক সময় ২৫০০ টাকা দিয়ে একটি কোর্স করি। সেখান থেকে অনেক কিছু শেখা হয়, অনেক মানুষের সাথে পরিচয় হয়।"

"আমার প্রথম কাজ ছিলো একটি টু-ফ্যাক্টর বাইপাস করা। কাজের চুক্তি ছিলো ৫০০ টাকার। ফেসবুক থেকে ইতিবাচক রেসপন্স আসার পরেও একাউন্ট বাইপাসে সমস্যা হচ্ছিলো। তখন আবার আরেকটি কোর্স করতে হয় আলাদাভাবে। ধীরে ধীরে আমি শিখে যাই, গড়ে উঠি।"

"এভাবে কাজ করতে করতে অনেক ভাই-ব্রাদারসের সাথে সম্পর্ক তৈরি হয়। আমি বুঝি, ভার্চুয়াল দুনিয়ায় সবচেয়ে বড় জিনিসটা হচ্ছে বিশ্বাস। আমি কখনোই আগেই টাকা নিতাম না। এমন অনেক কাজ করেছি যার টাকা পাইনি — তবুও মন খারাপ করিনি। কারণ, আমি বিশ্বাসের জায়গাটা তৈরি করতে চেয়েছি।"

"আজ আমার নিজের একটা গ্রুপ আছে। হাজার হাজার টাকার ডিল মানুষ চোখ বন্ধ করে আমাকে দিয়ে করে। বড় বড় টিমের ভাইদের সাথে আমার পরিচয় আছে। এমনকি অনেক মানুষকে আমি কখনো দেখিনি, চিনিও না — তবুও তারা আমাকে বিশ্বাস করে।"

"হয়তো এটাই আমার সবচেয়ে বড় অর্জন — মানুষের বিশ্বাস।"

"আমি এই পুরো কাজটি পার্টটাইম ভিত্তিতে করছি এবং সরকারি কোনো সহযোগিতার প্রয়োজন নেই। আগে আমার একটি ছোট দোকান ছিল, কিন্তু বর্তমানে আমি বেকার। ভবিষ্যতে একটি স্বাধীন ব্যবসা শুরু করার পরিকল্পনা করছি। তবে আমার থেকেও অনেক ভালো ও দক্ষ এক্সপার্ট আছেন, যারা এই কাজটিকে পেশাগতভাবে নিচ্ছেন এবং নিয়মিতভাবে মানুষের ফেসবুক সংক্রান্ত সমস্যার সমাধান করে যাচ্ছেন। আমি মনে করি, সরকার চাইলে এইসব দক্ষ ও নিষ্ঠাবান এক্সপার্টদের যথাযথ সহযোগিতা ও সুযোগ প্রদান করতে পারেন।"

"আমাদের ‘জুলাই আন্দোলনের’ সাফল্যের পেছনে এই এক্সপার্টদের অবদান ছিল অসাধারণ ও অপরিসীম। তাঁদের শ্রম, জ্ঞান ও নিষ্ঠা না থাকলে এই সাফল্য অর্জন করা সম্ভব হতো না।"

সাধারণ মানুষের জন্য তার কোন ম্যাসেজ আছে কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, "আমি সাধারণ ফেসবুক ব্যবহারকারীদের উদ্দেশ্যে বলবো

আপনার ফেসবুক অ্যাকাউন্টের নাম, জন্মতারিখ — এসব তথ্য যেন আপনার জাতীয় পরিচয়পত্রের (NID) সঙ্গে মিল থাকে, সেটা অবশ্যই খেয়াল রাখুন। ভবিষ্যতে যদি কোনো কারণে অ্যাকাউন্ট সাসপেন্ড বা হ্যাক হয়, তাহলে এই মিল থাকা তথ্যগুলো দিয়েই সহজে আপনার প্রোফাইল ফিরিয়ে আনা যাবে। সতর্ক থাকুন, সুরক্ষিত থাকুন।"


যোগাযোগ: ইস্টার্ন হাউজিং (আলুবদী রোড), পল্লবী, মিরপুর, ঢাকা-১২১৬।